সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কায়েমের জন্য সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দলীয়করণ ছাড়া সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই। ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের খাজনা-ট্যাক্সের টাকা সরকারের কোষাগারে গেলেও হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। দেশ ও জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কী? হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষ মারা গেলেও সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।আগের সরকারের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে লাভ নেইগোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার যেকোনো সমস্যার জন্য আগের সরকারকে দায়ী করে নিজেদের দায় এড়াতে চায়। কিন্তু কোনো সরকারই পরবর্তী সরকারের জন্য সব সমস্যা সমাধান করে রেখে যায় না। আগের সরকার সমস্যা সমাধান করতে না পারার কারণেই জনগণ সরকার পরিবর্তন করে। নতুন সরকারও যদি জনগণের সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ তাদেরও পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, হাম ও ডেঙ্গুর যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও সরকার তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।মোবারক হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দেশের যেকোনো সংকটকালে জামায়াতে ইসলামী সবার আগে এগিয়ে আসে বলেও দাবি করেন তিনি।বুলবুল বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বাড়ছে। অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেও দলীয়করণের মাধ্যমে অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে স্বাস্থ্য খাত নিজেই ‘দুরারোগ্য ব্যাধিতে’ আক্রান্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মশা নিধনের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে কয়েকটি সভা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মশারি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।