দৈনন্দিন জীবনে কুশল বিনিময়ের অংশ হিসেবে একে অপরকে ‘কেমন আছেন?’—এ প্রশ্ন করা হয়। জবাবে কেউ বলেন, ‘ভালো আছি’, আবার কেউ বলেন, ‘আল্লাহ ভালো রেখেছেন’ কিংবা ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি’। এ ধরনের উত্তর দেওয়া নিয়ে কারও কারও মধ্যে সংশয় দেখা যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘আল্লাহ ভালো রেখেছেন’ বলা জায়েজ এবং এতে কোনো আপত্তিকর বিষয় নেই।বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের কথাবার্তায় কুশল জিজ্ঞাসা ও আল্লাহর প্রশংসাসূচক উত্তরের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কুশলের জবাবহজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে অমুক! তুমি কীভাবে সকাল করলে?’ অর্থাৎ, ‘তুমি কেমন আছ?’জবাবে লোকটি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি তোমার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা করেছিলাম।’(ত্ববারানি, হাদিস: ৪৩৭৭; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৪০, ১৭১৫৪)হজরত ওমর (রা.)-এর ঘটনাও রয়েছেহজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে সালাম দেওয়ার পর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কেমন আছ?’লোকটি উত্তরে বলেন, ‘আমি আপনার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি।’ তখন হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘আমি তোমার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা করেছিলাম।’(আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৮৬৬; সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ, ৬/১০৯৯)‘ভালো আছি’ বলারও দৃষ্টান্তহজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক ঘটনায় জানা যায়, এক বৃদ্ধা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলে তিনি তার কুশল জানতে চান। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা কেমন আছেন? আপনাদের অবস্থা কেমন? আমাদের পরে কেমন ছিলেন?’জবাবে বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি ভালো আছি। হে আল্লাহর রাসুল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক।’(মুস্তাদরাক, হাদিস: ৪০; সিলসিলাতুস সহীহাহ, ১/৪২৪)আল্লাহর শুকরিয়া প্রকাশএসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কারও কুশল জানতে চাইলে ‘কেমন আছেন?’ এবং উত্তরে ‘ভালো আছি’ বলা স্বাভাবিক ও বৈধ। একইভাবে ‘আল্লাহ ভালো রেখেছেন’ বলার মধ্যেও শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় নেই। বরং আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা যেতে পারে।সুতরাং ‘কেমন আছেন?’ প্রশ্নের উত্তরে ‘আল্লাহ ভালো রেখেছেন’ বা ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি’ বলা জায়েজ। এ ধরনের স্বাভাবিক কথাবার্তাকে অকারণে ভুল, নাজায়েজ বা বিদআত বলা সমীচীন নয়।তথ্যসূত্র: ত্ববারানি, আদাবুল মুফরাদ, মুস্তাদরাক ও সিলসিলাতুস সহীহাহ।