চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আরও ট্র্যাক ও ওয়াকিং ওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনানাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নাগরিকেরা যেন ঘর থেকে বেরিয়ে স্বস্তিতে হাঁটাচলা ও সাইকেল চালাতে পারেন, সে জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাইকেল ট্র্যাক ও হাঁটার পথ নির্মাণ করা হবে।শুক্রবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় বিমানবন্দর সড়কে দেশের প্রথম নিবেদিত সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সাইকেল চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। সাইক্লিস্টদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিমানবন্দর সড়কে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটি একটি নতুন উদ্যোগ।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়েই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। হাঁটাচলা ও সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড মানুষের সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য নাগরিকদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।৩৬ খালের পাড়েও সাইকেল ট্র্যাকের পরিকল্পনাঅনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত সাইকেল চালানো ও কায়িক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বিবেচনায় ওয়াকিং ওয়ে এবং সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দর সড়কের ট্র্যাকটি চালু করা হলো।তিনি জানান, নগরীর ৩৬টি খালের পাড়েও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়বে।সাইকেল ট্র্যাকটি অবৈধভাবে দখল হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এটি দখল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ট্র্যাকটি শুধু সাইকেল চালানোর জন্যই ব্যবহৃত হবে।নির্মাণে ব্যয় ২৪ কোটি টাকাচট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন সাইকেল ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে। চসিকের দাবি, এটিই বাংলাদেশের প্রথম নিবেদিত সাইকেল ট্র্যাক।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।