দেশে গরুর গোশতের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল গোশতের বাণিজ্যিক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। অন্যথায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছেনোটিশে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি গরুর গোশত ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গরুর গোশত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ উল্লেখ করে বলা হয়, যেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে কোনো পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব, সেসব দেশ থেকে আমদানি করলে ভোক্তারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির উদাহরণ টেনে বলা হয়, দেশে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে সুবিধা পায়।আইনজীবীর দাবি, বাংলাদেশে চারণভূমির সংকট, পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গবাদিপশু পালনের ব্যয়ের কারণে গোশত উৎপাদন ব্যয়বহুল। বিপরীতে, বিস্তৃত চারণভূমি ও বৃহৎ পরিসরে পশু পালনের সুবিধা থাকা দেশগুলো থেকে আমদানির সুযোগ দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমতে পারে।নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল ফ্রোজেন বা চিল্ড গোশত আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং দাম কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।