সাভারের আশুলিয়ায় সাড়ে সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাওনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১০ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার একটি আধাপাকা বাড়িতে অভিযান শেষ হয়।পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী, বাড়ইপাড়া, জিরাবো ও কাশিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিলেন। শাওনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।কাশিমপুরের মামলার তদন্তে চক্রের সন্ধানপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর থানার একটি ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে শাওনের নাম উঠে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।সোমবার রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মোত্তালেবের বাড়ির একটি আধাপাকা বাসায় অভিযান শুরু হয়। পুলিশ জানায়, শাওন ও তাঁর সহযোগীরা ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। অপরাধ সংঘটনের সুবিধার্থে তাঁরা আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের লোকজনের অবস্থান নিশ্চিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের ওপর হামলা, পালানোর চেষ্টাঅভিযান চলাকালে বাড়িটি ঘিরে ফেললে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলা চালান এবং পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর জন্য ঘরের তিন থেকে চারটি দরজা ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশের দাবি, এ সময় এক নারী পোশাকশ্রমিকের গলায় ছুরি ধরে তাঁকে জিম্মি করার ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার অভিযানের পর শাওনসহ ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছেআশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বলেন, কাশিমপুর থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একাধিক পুলিশ দল সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে শাওনসহ ছয়জনকে আটক করে।তিনি জানান, শাওনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, কাশিমপুর থানা-পুলিশকে সহায়তা দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে কাশিমপুর থানায় রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে মামলা থাকায় পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর, ‘যে অভিযান গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে’, ১২ অক্টোবর ২০২৬; আশুলিয়া থানা-পুলিশ ও জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।