জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় দেশটিকে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সকে ‘বিপ্লব ঘটানোর আদর্শ জায়গা’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অন্যদিকে, দেশটিতে সহিংসতার জন্য অভিবাসন ও অভিবাসীদের সামাজিকভাবে একীভূত করার নীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেন, ‘চলো ফ্রান্সে যাই। দারুণ জায়গা! কোনো দাঙ্গা নেই, বিপ্লব নেই। আসলে, ফ্রান্স তো বিপ্লব ঘটানোর জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলো ফ্রান্সে যাই আর বিপ্লবে যোগ দিই।’অভিবাসননীতির সমালোচনা ভ্যান্সেরসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার কথা বলে পশ্চিমা উদারপন্থিরা ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী এনেছেন। কিন্তু তাঁদের সমাজের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ফ্রান্সে চলমান সহিংসতার পেছনে অভিবাসননীতির ভূমিকা নিয়ে ভ্যান্সের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে এনেছে।বিক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগশনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় আকারের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত পদযাত্রাগুলোর একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।প্যারিসে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র। লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো একটি টাউন হল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্সেই ও লিলে দুটি টাউন হলে ভাঙচুর এবং লিওঁ শহরে একটি পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণাফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।বিক্ষোভের পর রোববার সকালে দেশটির বিভিন্ন সড়কে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর অসন্তোষে রূপ নিয়েছে।