ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। গত এক সপ্তাহ ধরে রাত ও ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা, ঘাস ও ধানপাতায় শিশিরবিন্দু এবং উত্তরের শীতল বাতাস জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। শীতের প্রস্তুতিতে এরই মধ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষক, লেপ-তোশকের কারিগর, গাছি ও পিঠা বিক্রেতারা।শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে শীতের পূর্বাভাস। সকালে সূর্যের আলোয় দুর্বাঘাস ও ফসলের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু ঝলমল করে ওঠে। ভোরের আকাশ কখনো কুয়াশায় ঢেকে যায়। দিনের বেলায় অবশ্য গরমের অনুভূতি থাকছে।বাজারে শীতের সবজি, দাম কিছুটা চড়াগফরগাঁওয়ের হাটবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। তবে এসব সবজির দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগাম সবজি বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরাও।লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরশীতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লেপ-তোশক তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। স্থানীয় কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ছে। তবে তুলা, কাপড় ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার লেপ-তোশক তৈরির খরচও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি গাছিদেরশীত মৌসুম সামনে রেখে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন গাছিরা। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছ প্রস্তুতের কাজে গাছিদের পারিশ্রমিকও বেড়েছে।এদিকে গফরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে আগের তুলনায় খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। নতুন চারা রোপণে মানুষের আগ্রহ কম থাকায় এ অঞ্চলে খেজুরগাছের বিস্তারও কমছে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত পেশার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।হাটবাজারে বসছে পিঠার দোকানশীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন হাটবাজারে বসতে শুরু করেছে নানা ধরনের পিঠার দোকান। গ্রামের বেকার ও শ্রমজীবী নারীরা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন। পিঠার সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সকালে এসব দোকানে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।পিঠা খেতে আসা আবু বক্কর নামে এক রিকশাচালক বলেন, সকালে পিঠা খেতে তাঁর ভালো লাগে। তাই প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে যাত্রী খুঁজতে রিকশা নিয়ে বের হন।গফরগাঁও পৌর এলাকার প্রাতঃভ্রমণকারী ওষুধ ব্যবসায়ী তপন খান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সকালে হাঁটার সময় বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। তাঁর মনে হচ্ছে, শীতের দিন চলে এসেছে। রাতে এখন আর ফ্যানের প্রয়োজন হয় না; ফ্যান চালালে কাঁথা ব্যবহার করতে হয়।সব মিলিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে গফরগাঁওয়ের জনজীবন ও স্থানীয় বাজারে শীতের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততা বাড়ছে।