অফিস, বাজার কিংবা দৈনন্দিন কাজে বের হওয়ার সময় অনেকেই অভ্যাসবশত একই কাঁধে ব্যাগ ঝোলান। শুরুতে তেমন অস্বস্তি না হলেও দীর্ঘদিন ভারী ব্যাগ এক কাঁধে বহন করলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এতে ব্যথা, পেশির ক্লান্তি এবং শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে।বিশেষ করে ল্যাপটপ, বই কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে ভারী হয়ে ওঠা ব্যাগ দীর্ঘক্ষণ বহন করলে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। তাই ব্যাগের ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বহনের পদ্ধতিতেও সচেতন হওয়া জরুরি।এক কাঁধে ব্যাগ নিলে শরীরে কী হয়?এক কাঁধে ব্যাগের ভার বহন করলে শরীরকে ভারসাম্য রক্ষার জন্য স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হয়। অনেক সময় ব্যাগের ভার সামলাতে কাঁধ উঁচু হয়ে যায় কিংবা শরীর একদিকে হেলে পড়ে। এতে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের আশপাশের পেশিতে অসম চাপ সৃষ্টি হতে পারে।দীর্ঘক্ষণ এভাবে ব্যাগ বহন করলে পেশিতে ক্লান্তি জমে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা, পিঠের ওপরের অংশে অস্বস্তি এবং পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করতে হয় বা আগে থেকেই ঘাড় ও পিঠে ব্যথা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।তবে এক কাঁধে ব্যাগ বহন করলেই স্থায়ীভাবে মেরুদণ্ডের ক্ষতি হবে—এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে ব্যাগের ওজন, বহনের সময়কাল, শারীরিক অবস্থা ও বহনের ভঙ্গির ওপর।যেভাবে কমাবেন শারীরিক চাপব্যাগ হালকা রাখুন: প্রতিদিন ব্যাগে কী কী বহন করছেন, তা যাচাই করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে ব্যাগের ওজন যতটা সম্ভব কম রাখুন।দুই কাঁধে স্ট্র্যাপ ব্যবহার করুন: ব্যাকপ্যাকের ক্ষেত্রে দুটি স্ট্র্যাপই ব্যবহার করুন। এতে দুই কাঁধে ভার তুলনামূলকভাবে সমানভাবে বণ্টিত হয়।ব্যাগ শরীরের কাছাকাছি রাখুন: ব্যাকপ্যাকের স্ট্র্যাপ এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে ব্যাগটি পিঠের সঙ্গে কাছাকাছি থাকে এবং অতিরিক্ত নিচে ঝুলে না পড়ে।প্রয়োজনে কাঁধ বদলান: এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করলে মাঝেমধ্যে কাঁধ বদল করুন। তবে শুধু কাঁধ বদল করলেই অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি দূর হয় না।নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও শরীরের মধ্যভাগের পেশি শক্তিশালী রাখতে উপযোগী ব্যায়াম করুন। আগে থেকেই ব্যথা থাকলে কঠিন ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?ব্যাগ বহনের পর ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা হাত ঝিনঝিন করা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হঠাৎ হাতের শক্তি কমে যাওয়া বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।দৈনন্দিন জীবনে ব্যাগ বহনের ছোট্ট অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো সম্ভব। তাই ব্যাগের ওজন ও বহনের ভঙ্গি—দুটির প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।