বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মূলধন ও আইন পরিপালনে ঘাটতি থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।ব্যবসা চালানোর অনুমতি পেল চার প্রতিষ্ঠানবিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যাপ্ত নিট সম্পদ ও সন্তোষজনক মূল্যায়ন সূচক থাকায় চারটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড—স্টক ব্রোকারঅ্যাভিভা ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড—স্টক ব্রোকারপিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড—মার্চেন্ট ব্যাংকপ্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড—মার্চেন্ট ব্যাংকসাত প্রতিষ্ঠানকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়নিট সম্পদ ও সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন পরিপালনে ঘাটতি থাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে তা নিরসন এবং বিধিবিধান অনুসরণের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।এ তালিকায় রয়েছে চারটি স্টক ব্রোকার—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস ও পিএফআই সিকিউরিটিজ। এ ছাড়া দুটি মার্চেন্ট ব্যাংক—আইএল ক্যাপিটাল ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট এবং একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড রয়েছে।অন্যদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণের জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।অবসায়নের প্রক্রিয়ায় ৯ লিজিং কোম্পানিখেলাপি ঋণ ও গুরুতর আর্থিক সংকটের কারণে নয়টি লিজিং কোম্পানির অবসায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে চূড়ান্ত অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।তবে আদালত-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পিপলস লিজিংয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সেগুলোকেও অবসায়ন প্রক্রিয়ায় আনা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।