ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ৯ জানুয়ারি হলেও ১১ দলীয় জোটের মধ্যে এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে মতপার্থক্য জোটের ভেতরে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত আসন বণ্টন নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জোটের অধিকাংশ শরিক দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নির্ধারিত হয়েছে।এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নেতা মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতানৈক্য রয়েছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ আছে। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জোটে যুক্ত এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে ৮ দলের কোনো বৈঠক হয়নি। আলোচনার পরিসর কেবল জামায়াতকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকছে, যা জোটের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রংপুরে এক নির্বাচনী সভায় বলেন, জোটের ভেতরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পর্যন্ত আলোচনা চালানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, আপাতত লিয়াজোঁ কমিটির কোনো বৈঠক না থাকলেও সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা নেই। জোটের বাইরে গেলে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে, তা সবাই অবগত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে ১১ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেসব দল আগে কখনো সংসদে একটি আসনও পায়নি, তারা বিপুল সংখ্যক আসন দাবি করছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, জোট রাজনীতিতে পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মানসিকতা জরুরি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথেই ফিরবে বলে তিনি আশাবাদী।