জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে নগর ও জেলাজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনসমাগমস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতপথে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সও।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পূজামণ্ডপ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাপ্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল কর্মসূচিস্থল জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন করেছে। এ সময় প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হয়।নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদেরও মোতায়েন রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনসমাগমস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর চলাচল-সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স।প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সমন্বয়ে নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। সফর ঘিরে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, প্রশাসন, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।২ হাজার ৬০০ পূজামণ্ডপে নজরদারিসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর ও জেলাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম চলছে। এসব কার্যক্রমে পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল ও পরিদর্শনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।এ ছাড়া দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ছড়ানো কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালানো হচ্ছে।সিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পৌঁছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে।এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর।প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখা, দুর্গাপূজার উৎসবের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখাকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি।