রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি তিনতলা বাড়িতে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনে স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনার পর আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাড়িটি ভাড়া দেওয়া, সেখানে নিয়মিত পার্টির আয়োজন এবং তদারকির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুম ভাড়া, অতিরিক্ত অতিথির জন্য ফিযুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির একটি অংশে নির্মিত বাড়িটিতে পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অতিথিদের কাছে কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া হতো। বাড়িটি দেখভালের জন্য মাহবুব আলম নামে একজনকে কো-হোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল জহির।ডিবি পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, একেকটি কক্ষ প্রায় ১০ জনের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। অতিরিক্ত অতিথির ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত এসব আয়োজন চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি অনুষ্ঠান হতো এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো বলে তিনি জানান।অভিযানে আটক ৮৪ জনডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদক কারবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন।পুলিশের দাবি, বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, কনডম এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: বাড়ির মালিকঅভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির যুগান্তরকে বলেন, তিনি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিতেন এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছু কঠোর নিয়মও ছিল। তাঁর দাবি, একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে এবার বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মদ আনা হবে বা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলবে, তা তিনি জানতেন না।তবে বাড়িটিতে অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকলে এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি।ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমানের উদ্বেগএ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে আটকের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে। জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তরুণদের আবার জেগে ওঠার কথাও বলেন তিনি।তথ্যসূত্র: ডিবি পুলিশের বক্তব্য; অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্য; ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট।