ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে এ অংশে ৮৭টি দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬২টি। তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত গতি শনাক্তের স্পিডগান ও চালকদের মাদকাসক্তি পরীক্ষার ডোপ টেস্ট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর অনেক চালক পালিয়ে যান। এরপর মামলা দায়ের ও গাড়ি জব্দ করার মধ্যেই পুলিশের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে দায়ী চালকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক মামলায় আসামির পরিচয় অজ্ঞাত থেকে যায়।হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে মহাসড়কের ফেনী অংশে দুর্ঘটনায় ৬৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৪৮টি। ২০২৪ সালের একই সময়ে নিহত হন ৪৬ জন এবং আহত ৪৩ জন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।দুই থানা এলাকায় ৮৭ দুর্ঘটনাফেনী সদরের ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন এলাকায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মামলায় অভিযোগপত্র এবং ৯টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বাকি চারটি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন।অন্যদিকে, মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন এলাকায় একই সময়ে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৮টি। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার জানান, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিডগান এবং চালকদের মাদকাসক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এআই ক্যামেরা স্থাপনের কারণে স্পিডগান ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।নজরদারি ও চালকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ননিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, চালকদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। হাইওয়ে পুলিশের যথাযথ নজরদারি থাকলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।বিআরটিএ ফেনী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. আল ফয়সাল চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও জানান, গত ১২ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা এবং আহত দুই ব্যক্তির পরিবারকে চার লাখ টাকার অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে।মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষদুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের একাধিক স্বজনের দাবি, এসব ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চালককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করতে হয় বলে জানিয়েছেন মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার।পুলিশের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকে মামলা করতে চান না। পুলিশ যেসব দুর্ঘটনার খবর পায়, সেসব ঘটনায় মামলা করা হয়।ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেজবাহ উদ্দীন খাঁন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়। তবে এসব মামলার অধিকাংশ আসামিই অজ্ঞাত থাকেন।