এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৩৮ জন। এদিকে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর হরিপুরে রাব্বিল হোসেন (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে হরিপুর উপজেলার খোলড়া বালিয়াডুকুর এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রাব্বিল। তিনি ওই এলাকার রমজান আলীর ছেলে।পরিবারের ভাষ্য, এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকে হতাশায় ভুগছিলেন রাব্বিল। তাঁর বাবা রমজান আলী বলেন, ছেলে পড়াশোনায় কিছুটা অন্যমনস্ক হলেও এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি।হরিপুর থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।নয় প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননিএবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সদর উপজেলার সালন্দর মহিলা কলেজ ও কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ; বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোড়লহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রত্নাই বগুলাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; পীরগঞ্জ উপজেলার একটিয়াপুর শহীদ সালাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাণীশংকৈল উপজেলার ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগড় কলেজ ও রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ।জেলায় এবার মোট ৯ হাজার ৮৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৮ জন।নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্তজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, কাগজে-কলমে টিকে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই মূলত নামসর্বস্ব এবং মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত। সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কাছে বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি, সেগুলোর অধিকাংশই নন-এমপিওভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের ন্যূনতম অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।