সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৫নং চান্দাইকোনা ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখল করে দোকানপাট বসানো এবং করাতকলের কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী ও অটোরিকশায় চলাচলকারী যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুই পাশে চায়ের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি করাতকলের কাঠের গুঁড়ি ও বিভিন্ন মালামাল রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখায় চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।এক স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে রাখা করাতকলের কাঠের গুঁড়ির কারণে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে যাচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাস্তার পাশ থেকে এসব প্রতিবন্ধকতা দ্রুত সরানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।এদিকে, সড়কে অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাস্তার দুই পাশে দোকানপাট ও কাঠের গুঁড়ি রাখার কারণে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা সুবল নাথ অভিযোগ করে বলেন, “সরকার রাস্তার দুই পাশে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য জায়গা রেখেছে। কিন্তু সেখানে দোকানপাট বসানো এবং কাঠের গুঁড়ি রেখে জায়গা দখল করে রাখায় আমরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”আরেক বাসিন্দা আকাশ মাহমুদ বলেন, “বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকানপাট ও অটোরিকশার কারণে পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।”এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জবা দই ঘরের মালিক ভোজন ঘোষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি কাঠের খড়ি রাখছি। ওখান দিয়ে কেউ যাতায়াত করে না। আপনারা যা পারেন, তাই লেখেন।”অন্যদিকে, ফুটপাত দখল করে জারিফ সাইকেলের মালিক জাকারিয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “আমি আমার জায়গায় রাখছি। কারও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আপনার এত কিসের সমস্যা?”উপজেলা সহকারী ভূমি রওশন কবির জানান, আমি এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মালামাল দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাস্তাটি পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।