কয়েক সপ্তাহে অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমেছে, কেজিতে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায়রাজধানীর বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কমেছে বেশির ভাগ সবজির দাম। এর প্রভাবে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের দামও। তবে মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের সরবরাহ শুরু হলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে জাতীয় এ মাছ।রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, সেগুনবাগিচা ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।অর্ধেকে নেমেছে অনেক সবজির দামবিক্রেতারা জানান, গত এক থেকে দেড় মাসের তুলনায় বর্তমানে অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জাকিয়া সুলতানা বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।রোববার কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লাউ ২০ থেকে ৫০ টাকা, লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লালশাকের আঁটি পাওয়া গেছে ১০ টাকায়। তবে টমেটোর দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজার ও এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, পাইকারি বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।কমেছে ডিম ও মুরগির দামডিমের বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা পলাশ জানান, দেড় মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।তবে ফুটপাতের দোকানে সিদ্ধ ডিমের দাম এখনো বেশি। সেখানে প্রতিটি সিদ্ধ ডিম ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। রোববার কারওয়ান বাজার ও নয়াবাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশ, দাম এখনো বেশিসবজি, ডিম ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তার প্রভাব নেই। কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দামও চড়া।মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে শেষ হয়। এরপর নদী ও সাগরে মাছ ধরতে ফিরেছেন জেলেরা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ইলিশের সরবরাহ এখনো চাহিদার তুলনায় কম।রাজধানীর বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের কেজি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়।নয়াবাজারের মাছ বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন পাইকারি দাম কিছুটা কমায় খুচরা বাজারেও দাম কমেছে।আল্লার দান ফিশের স্বত্বাধিকারী শুক্কুর আলী জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এ দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রেতাদের জন্য এখনো অনেক বেশি।নয়াবাজারে ইলিশ কিনতে আসা পোশাক কারখানার কর্মী সাব্বির হোসেন বলেন, তাঁর ছোট মেয়ে ইলিশ খেতে চাওয়ায় বেশি দাম দিয়েই মাছ কিনতে হয়েছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ তিনি ৬০০ টাকায় কিনেছেন।জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞাইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাসের জন্য ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।মুদি পণ্যের দামে উদ্বেগ, বাজার তদারকির দাবিসবজি ও ডিমের দাম কমলেও চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ বলেন, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মুদি পণ্য কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় তাঁদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে।কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে যথাযথ তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় দাম কমলেও উৎপাদনস্থল ও রাজধানীর বাজারের দামের ব্যবধান অনেক বেশি। তাঁর উদাহরণ, কুড়িগ্রামে যে লাউ ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, রাজধানীতে তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এ ব্যবধান কমাতে বাজার তদারকি এবং সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।