মানুষের জীবনে এমন অনেক কষ্ট ও দুশ্চিন্তা থাকে, যা সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। কেউ নীরবে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেন, আবার কেউ নিজের অসহায়ত্বের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরেন। এমন পরিস্থিতিতে কেউ যখন অন্যের কাছে বলেন, ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন’—তখন বিষয়টিকে নিছক আনুষ্ঠানিক অনুরোধ হিসেবে না দেখে আন্তরিকতার সঙ্গে তার জন্য দোয়া করা উচিত। ইসলামে এক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের অনুপস্থিতিতে দোয়া করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ দোয়া চাইলে শুধু মুখে আশ্বাস দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং যথাসম্ভব তার জন্য কল্যাণ, ক্ষমা, সুস্থতা, নিরাপত্তা ও বিপদমুক্তি কামনা করা উচিত। কারণ, অন্যের জন্য করা আন্তরিক দোয়া নিজের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনে।এ প্রসঙ্গে একটি দোয়া পড়া যেতে পারে—আরবি:اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَأَطِلْ عُمُرَهُ، وَاغْفِرْ لَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا رَزَقْتَهُউচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদাহু, ওয়া আত্বিল উমরাহু, ওয়াগফির লাহু, ওয়া বারিক লাহু ফিমা রাযাকতাহু।অর্থ: হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, তার আয়ু দীর্ঘ করুন, তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন।অন্যের জন্য দোয়া করার গুরুত্বপবিত্র কোরআনে মুমিনদের একে অপরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন—وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِঅর্থ: ‘আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও ক্ষমা করুন, যারা ঈমানের সঙ্গে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।’ (সুরা আল-হাশর, আয়াত ১০)।এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি অন্য মুমিনদের জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ কামনা করাও ঈমানি বৈশিষ্ট্যের অংশ।অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতাও দোয়া করেনঅন্য মুসলমানের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলিম ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য যে দোয়া করে, তা কবুল করা হয়।’এ সময় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। ওই ব্যক্তি যখনই তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করেন, ফেরেশতা বলেন, ‘আমিন! তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৩২)।অর্থাৎ, অন্যের জন্য নিভৃতে কল্যাণ কামনা করলে ফেরেশতাও দোয়াকারীর নিজের জন্য অনুরূপ কল্যাণের প্রার্থনা করেন। তাই এই আমল একজন মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াবের সুযোগ।দোয়া চাইলে কী করবেন?কেউ আপনার কাছে দোয়া চাইলে তার অনুরোধকে গুরুত্ব দিন। সুযোগ পেলেই তার জন্য দোয়া করুন। তার নাম জানা থাকলে নাম ধরে এবং সমস্যার কথা জানা থাকলে সেই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।কোনো ব্যক্তির পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না থাকলেও সাধারণভাবে এভাবে দোয়া করা যায়—‘হে আল্লাহ! তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিন। তার কষ্টগুলো সহজ করে দিন। তার নেক ইচ্ছাগুলো পূরণ করুন। তাকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন।’মনে রাখতে হবে, মানুষের অন্তরের কষ্ট সব সময় প্রকাশ পায় না। তাই কেউ দোয়া চাইলে তাকে অবহেলা না করে আন্তরিকভাবে তার জন্য প্রার্থনা করা উচিত। হয়তো আপনার একটি আন্তরিক দোয়া তার জীবনের কঠিন সময়ে আল্লাহর রহমত ও প্রশান্তির কারণ হতে পারে।আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে একে অপরের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা আল-হাশর, আয়াত ১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩২।