৫ নভেম্বর সফর করবেন তারেক রহমান; বন্দর সম্প্রসারণ, সড়ক-রেল যোগাযোগ ও কৃষি উন্নয়নে উদ্যোগ চান স্থানীয়রাদীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাগেরহাট সফর ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। আগামী ৫ নভেম্বরের এ সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সফর উপলক্ষে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে সাজসজ্জা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে সফরের কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলাজুড়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।মোংলা বন্দরে একাধিক কর্মসূচিসফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর সকালে হেলিকপ্টারে মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।পরে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে খুলনায় যাওয়ার পথে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাগেরহাট জেলা বিএনপি এ পথসভার আয়োজন করছে।জেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাট সফরে আসছেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে।যোগাযোগ ও কৃষি উন্নয়নে প্রত্যাশাস্থানীয়দের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, মহাসড়ক ও রেললাইন নির্মাণ-সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দেবে। তাঁদের মতে, বাগেরহাট কৃষিনির্ভর জেলা হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনব্যবস্থা উন্নত করতে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং রেল যোগাযোগের অভাব কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে বাধা হয়ে আছে। মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বন্দরকেন্দ্রিক সড়ক ও রেল যোগাযোগের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তাঁদের আশা, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে। এতে বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাই কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতির পথ তৈরি হবে।