রাজশাহীর বাঘায় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় শূন্য পাসের হার; কারিগরি শাখায় পাস ২৮ জনরাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শাখাটিতে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। শিক্ষার্থীসংখ্যা ও শিক্ষকসংখ্যার এই ব্যবধানের পাশাপাশি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।কলেজটির নাম তেথুলিয়া পিরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ অ্যান্ড ভোকেশনাল। প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে অবস্থিত।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা থেকে তিনজন এবং কারিগরি বিএম শাখা থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে কারিগরি শাখার ২৮ জন উত্তীর্ণ হলেও উচ্চ মাধ্যমিক শাখার তিন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে ওই শাখায় পাসের হার শূন্য শতাংশ।কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির দুই দশকের ইতিহাসে উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এবারই প্রথম এমন ফল বিপর্যয় ঘটেছে।দুই দশকের পুরোনো প্রতিষ্ঠানজানা গেছে, ২০০১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পায়। উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে কলেজটিতে মোট চারটি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন।তবে এসব শিক্ষকের কেউই এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন তাঁরা। নিয়মিত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো বেতন-ভাতাও পান না।নিয়মিত ক্লাসে না আসার অভিযোগফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় পাসের হার শূন্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে না আসাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।অধ্যক্ষের ভাষ্য, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অনীহা ও নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে প্রত্যাশিত ফল অর্জন সম্ভব হয়নি।