এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ৫২টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ এসব বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শীর্ষে রয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের মোট ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টি সরকারি, ২৩টি বেসরকারি এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।কিউএসের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম। অন্যদিকে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি রয়েছে ১৪৯তম অবস্থানে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগিয়ে নর্থ সাউথবাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। এশীয় র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১৪৯তম। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ২১৬তম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি রয়েছে ২৭১তম স্থানে।এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ৫৫৪তম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৭০০তম এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ৭৮১-৭৯০তম অবস্থানে রয়েছে।ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) রয়েছে ৮০১-৮৫০তম অবস্থানের মধ্যে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের অবস্থান ৮৫১-৯০০তম এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ রয়েছে ১১০১-১২০০তম অবস্থানে।এ ছাড়া ১২০১-১৩০০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগং, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।১৩০১-১৪০০তম অবস্থানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। ১৪০১-১৫০০তম অবস্থানে রয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং।১৫০১তম অবস্থানের পরের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এশীয় তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১৩৬তম।তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)।বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।এশিয়ার শীর্ষে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে কিউএস একাডেমিক সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে।বাংলাদেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্তি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরলেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে গবেষণার মান, শিক্ষার পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।