সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খননের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদিকে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান, অন্যদিকে সেখানে পুকুর খননের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুকুর খননের ঠিকাদার হিসেবে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি জহুরুল ইসলামের নাম সামনে এসেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা থানার ভট্টমাঝুরিয়া মৌজার জেএল নম্বর-২৩, আরএস খতিয়ান নম্বর-৬২, দাগ নম্বর-৪১৭-এর ৯ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আইয়ুব আলী ও তাঁর ওয়ারিশরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির শ্রেণি অভিযোগপত্রে বাঁশঝাড় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আইয়ুব আলী ও তাঁর ওয়ারিশরা উল্লাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৪১/২০২৩। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।আইয়ুব আলীর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত খোকন মিয়া, লিখন, রুহুল মাস্টার ও রোকন মিয়া বিরোধপূর্ণ জমিতে বেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খননের উদ্যোগ নেন। এ সময় তাঁরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পুকুর খননে ফসলি জমি কমার আশঙ্কাকৃষিজমি ও উর্বর ভূমি অপরিকল্পিতভাবে পুকুরে রূপান্তরের ফলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একবার গভীরভাবে মাটি কেটে পুকুর তৈরি করা হলে সেই জমিকে আগের কৃষি উপযোগী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ধান, গম, ভুট্টা ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের জমি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।কৃষিজমি কমে গেলে শুধু কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে আশপাশের জমির পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও স্বাভাবিক কৃষি পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে আবাদি জমি সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়বে।ঠিকাদার হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতার নামস্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে পুকুর খননের ঠিকাদার হিসেবে জহুরুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। তিনি রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে পুকুর খননের কাজের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা, কার্যাদেশ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও পুকুর খননের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা জরুরি। অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খননের উদ্যোগের কথা বলা হলেও আদালতের লিখিত নিষেধাজ্ঞা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে পুকুর খনন ও জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করে নাই, ঠিকাদার হিসেবে আলোচনায় আসা রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন পুকুর খননের কাজটা আমার না সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিরোনের। আপনারা তার সাথে কথা বলেন।মুঠোফোনে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিরোন প্রথমে জহুরুলকে চিনেন না পরে বলেন, আড়াই বিঘার জমিতে কাজ করছি, এবিষয়ে নিউজ না করার অনুরোধ করেন তিনি। মুঠোফোনে উল্লাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়েজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।