রক্তচাপ ১৯২ পর্যন্ত ওঠার দাবি পরিবারের, তবে আইনজীবীর অস্বীকৃতি; সাক্ষাতের সূত্র বলছে, সামগ্রিকভাবে সুস্থ ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীপাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার ছেলে কাসিম খান ও বোন রুবিনা খান দাবি করেছেন, কারাগারে ইমরানের রক্তচাপ ১৯২ পর্যন্ত উঠেছিল। এতে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে পরিবারের এসব দাবির তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সাফদার জানিয়েছেন, এসব তথ্যের উৎস তিনি নন।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলে কাসিম খানের শেয়ার করা এক বিবৃতিতে রুবিনা খান বলেন, তার ভাই তাকে জানিয়েছেন, কারাগারে অবস্থানকালে হঠাৎ তার রক্তচাপ বেড়ে ১৯২-এ পৌঁছায়। এ ঘটনায় ইমরান খানের জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে দ্রুত ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, কাসিম খান তার বাবার উচ্চ রক্তচাপের ঘটনাকে দীর্ঘদিনের নির্জন কারাবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা না হলে কারাগারেই তার বাবার মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।আইনজীবীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্নগত ২ নভেম্বর আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে তার আইনজীবী সালমান সাফদারের সাক্ষাতের পর পরিবারের পক্ষ থেকে এসব উদ্বেগের কথা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের উৎস হিসেবে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন এই আইনজীবী।সালমান সাফদার জানান, তিনি একজন পেশাদার আইনজীবী। তার দায়িত্ব আইনি বিষয় নিয়ে কাজ করা; তিনি কারও বার্তাবাহক নন।এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ২ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা ইমরানের সঙ্গে তাকে ৪০ মিনিট সাক্ষাতের সুযোগ দেয়। প্রায় সাত মাস পর ইমরান খান এবং ১১ মাস পর বুশরা বিবির সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সাক্ষাতের অনুমতি পেতে তাকে একাধিকবার আবেদন ও অনুরোধ করতে হয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাফদার বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে বিচারাধীন মামলাসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবি তাদের স্বাস্থ্য এবং কারাগারের জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি কয়েকটি আইনি বিষয়ে নতুন নির্দেশনাও দেন।সাক্ষাতের সূত্রের দাবি ভিন্নএদিকে, ওই সাক্ষাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্রের বক্তব্য পরিবারের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তাদের ভাষ্য, ইমরান খান একবার তার রক্তচাপ প্রায় ১৯০ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে তাকে সুস্থ ও শারীরিকভাবে ফিট মনে হয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো। তাৎক্ষণিক কোনো গুরুতর চিকিৎসাজনিত সংকটের লক্ষণও তাদের চোখে পড়েনি।সূত্রগুলোর দাবি, নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে স্ত্রী বুশরা বিবির স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন ইমরান খান। বুশরা বিবি চোখের সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানা গেছে।তথ্যের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশাইমরান খানের রক্তচাপ ১৯২-এ পৌঁছানোর তথ্য এবং তার জীবন ঝুঁকিতে থাকার অভিযোগ পরিবারের কাছে কীভাবে পৌঁছেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পরিবারের বক্তব্যে তথ্যের নির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আইনজীবী সালমান সাফদারও এসব তথ্যের উৎস হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।ফলে ইমরান খানের কাছ থেকে সরাসরি কোনো বার্তার ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি করেছেন, নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্য পেয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তার জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাক্ষাতের বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো তাকে সামগ্রিকভাবে সুস্থ বলে বর্ণনা করছে। পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।