ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ৭৬৬তম হয়েও ভর্তি হননি নুসরাত জাহান। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ এবং পারিবারিক বন্ধনের টানে বেছে নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েও সেখানে ভর্তি হননি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মেয়ে নুসরাত জাহান। বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৬৬তম স্থান অর্জন করে বাংলা বিভাগে পড়ার সুযোগ পেলেও নিজের পছন্দের বিষয় ইংরেজি সাহিত্য পড়তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (চবি) বেছে নিয়েছেন তিনি।২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ১৫তম এবং ‘ডি’ ইউনিটে ৩১৯তম স্থান অর্জন করেন নুসরাত। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী।প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দ ও লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে নুসরাত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে তাঁর অতিরিক্ত কোনো মোহ ছিল না। তাঁর বিশ্বাস, ভর্তি পরীক্ষায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলেও জীবনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। বরং নতুন সম্ভাবনা খুঁজে নেওয়ার সুযোগ থাকে।নুসরাতের ভাষায়, ‘সবাই বলে চান্স পেয়ে দেখান, আমি ভর্তি না হয়ে দেখাব।’তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়ার সুযোগ পেলেও তাঁর আগ্রহ ছিল ইংরেজি সাহিত্যে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় সেখানেই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে বাবার সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পারিবারিক সম্পর্কও ভূমিকা রেখেছে। তাঁর বাবা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নুসরাত জানান, দেশের বাইরে গিয়ে ইংরেজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।অনলাইনেই প্রস্তুতি, ছিল আত্মবিশ্বাসভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে নুসরাত বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় চার মাস আগে তিনি ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সচেতন হন। শুরু থেকেই বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে মনোযোগী ছিলেন। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে এইচএসসির ফল ভালো রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছেন।তিনি জানান, রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করায় ভালো কোনো কোচিং সেন্টারে পড়ার সুযোগ পাননি। ফলে সম্পূর্ণ অনলাইননির্ভর পড়াশোনার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি অংশ আশানুরূপ না হলেও লিখিত অংশে ভালো করার চেষ্টা করেন তিনি। বহুনির্বাচনি অংশে পাস নম্বর নিশ্চিত করে দ্রুত উত্তরপত্র জমা দিয়ে লিখিত অংশে মনোযোগ দেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমে নিশ্চিত উত্তরগুলো দাগিয়েছেন। পরে ভেবেচিন্তে সম্ভাব্য উত্তর দিয়েছেন। কোনো প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে কঠিন প্রশ্নগুলো শেষ সময়ের জন্য রেখে দেওয়ার কৌশল অনুসরণ করেছেন।নুসরাতের মতে, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ঠান্ডা মাথায় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধীরস্থিরভাবে পরীক্ষা দেওয়াই তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ।