তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন
প্রথম দর্পণ, ডেস্ক||
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৬ সময়
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪ ডলার ৯ সেন্টে নেমে এসেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাকে এ দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩ ডলার ৩০ সেন্টে দাঁড়ায়।তবে দৈনিক দরপতন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের বাজার আগস্টের শেষ দিকের পর সবচেয়ে ভালো সাপ্তাহিক অবস্থানে থাকার পথে রয়েছে।সুদের হার নিয়ে উদ্বেগবাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে ধরে রাখতে পারে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে তেলের দামে সামগ্রিকভাবে বড় পতনের আশঙ্কা রয়েছে।ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার শঙ্কাসিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীদের ৬৮ শতাংশ। গত মাসে এ সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে সেই প্রত্যাশা কমেছে।অন্যদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের সম্ভাব্য দাম ৪ হাজার ৬৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ১৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কায় ব্যাংকটি তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।কমেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামওস্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫১ ডলার ৫১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫১২ ডলার ৮৩ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০ ডলার ১০ সেন্টে নেমে এসেছে।