নিজের লেখায় জানালেন, সকালে দুধ-কাঁচা ডিম, রাতে মাংস-গাজর; পছন্দের তালিকায় ছিল আইসক্রিমহলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতি আজও মানুষের আগ্রহের বিষয়। তবে সৌন্দর্য ও ফিটনেস ধরে রাখতে তার খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং ঘুমের রুটিন কেমন ছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কয়েক দশক আগের একটি লেখাকে কেন্দ্র করে। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত ওই লেখায় নিজের জীবনযাপনের অভ্যাস তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী নিজেই।১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পেজেন্ট’ সাময়িকীতে ‘হাউ আই স্টে ইন শেপ’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখায় মেরিলিন মনরো তার খাবার, ব্যায়াম ও বিশ্রামের অভ্যাসের বিস্তারিত বিবরণ দেন। পরবর্তী সময়ে ‘ভোগ’ ও ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও লেখাটি নিয়ে আলোচনা হয়।সকালের নাশতায় দুধ ও কাঁচা ডিমমনরোর সকালের খাবারের তালিকায় ছিল দুধ ও কাঁচা ডিম। ব্যস্ততার মধ্যে অল্প সময়ে খাবার সেরে নিতে তিনি এই অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন।নিজের লেখায় তিনি জানান, সকালে গোসলের আগে হোটেলকক্ষে থাকা ছোট চুলায় এক কাপ দুধ গরম করতেন। এরপর তাতে দুটি কাঁচা ডিম ভেঙে দিয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতেন। পোশাক পরার সময় সেই মিশ্রণ পান করতেন। পাশাপাশি গ্রহণ করতেন একটি মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট।রাতের খাবারে মাংস ও কাঁচা গাজররাতের খাবারের তালিকাও ছিল তুলনামূলক সাধারণ। প্রায় প্রতিদিন হোটেলের কাছের বাজার থেকে স্টেক, ভেড়ার মাংস ও কলিজা কিনে আনতেন তিনি। হোটেলকক্ষের বৈদ্যুতিক চুলায় সেগুলো রান্না করে খেতেন। সঙ্গে থাকত চার-পাঁচটি কাঁচা গাজর।গাজরের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা ছিল মনরোর। এ নিয়ে রসিকতা করে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাকে বোধহয় খরগোশের মতোই দেখতে হবে। কাঁচা গাজর খেতে কখনো বিরক্তি আসে না।’তবে খাবারের তালিকায় মাংস ও গাজরের প্রাধান্য থাকলেও মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা ছিল তার। বিশেষ করে আইসক্রিম ছিল বেশ পছন্দের। অভিনয়ের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়ই উইল রাইটের আইসক্রিমের দোকানে থামতেন তিনি। সেখানে তার পছন্দের খাবার ছিল ‘হট ফাজ সানডে’—আইসক্রিমের ওপর গরম চকোলেট সস দিয়ে তৈরি এক ধরনের মিষ্টান্ন।প্রতিদিন ১০ মিনিটের শরীরচর্চাখাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরচর্চার বিষয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন মনরো। প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ ও মুখ ধোয়ার পর বিছানার পাশে মেঝেতে শুয়ে ব্যায়াম শুরু করতেন তিনি। এ জন্য ব্যবহার করতেন পাঁচ পাউন্ড ওজনের দুটি ডাম্বেল।শরীরের বিভিন্ন পেশি দৃঢ় রাখতে নিজের মতো করে কয়েকটি ব্যায়ামের পদ্ধতিও তৈরি করেছিলেন অভিনেত্রী। দুই হাত ছড়িয়ে বুকের ওপর থেকে মাথার ওপর পর্যন্ত ডাম্বেল তুলতেন। ধীরে ধীরে এভাবে ১৫ বার অনুশীলন করতেন। পরে হাতের অবস্থান পরিবর্তন করে একই ধরনের ব্যায়াম করতেন। এ ছাড়া হাত মেঝে থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে রেখে ডাম্বেল ঘোরানোর অনুশীলনও ছিল তার রুটিনে।মনরো জানান, আগে নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন না তিনি। পরে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট হালকা ওজনের ডাম্বেল নিয়ে ব্যায়াম শুরু করেন। কঠোর নিয়ম মেনে চলার পরিবর্তে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে অনুশীলন করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।ঘুমাতেন পাঁচ থেকে ১০ ঘণ্টাঘুমের ক্ষেত্রেও ছিল মনরোর নিজস্ব রুটিন। কাজের ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করে রাতে পাঁচ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতেন তিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠতে কিছুটা সময় লাগত। ছুটির দিনে কখনো কখনো দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটাতেন। অর্থাৎ খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পাশাপাশি বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিতেন হলিউডের এই অভিনেত্রী।যেভাবে হলিউডের কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন১৯২৬ সালের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন মেরিলিন মনরো। জন্মের সময় তার নাম ছিল নরমা জিন মর্টেনসন। মডেলিংয়ের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৪৬ সালে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু হয় তার। এ সময় নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন মেরিলিন মনরো।‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল’ ও ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম নজর কাড়েন তিনি। ১৯৫৩ সালে ‘নিয়াগ্রা’, ‘জেন্টলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’ ও ‘হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার’ সিনেমায় অভিনয়ের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। পরে ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ও ‘সাম লাইক ইট হট’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে হলিউডের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী।