জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী গণঅভ্যুত্থানের পরও সরকার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিভিন্নভাবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। গত আট মাস ধরে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে বা পুনর্বাসিত হবে—এমন প্রচারণাকে দিল্লির প্রোপাগান্ডা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জয়পুরহাট শহরের স্বপ্ন ছায়া কমিউনিটি সেন্টারে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রচারণা কোনো সাধারণ প্রোপাগান্ডা নয়; বরং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে দিল্লি থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীনতা ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়।তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় সাংবাদিকসহ সরকারবিরোধী অনেক মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। জনগণের গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার সাংবিধানিক সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। অথচ নির্বাচনে সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর মজুরি বোর্ড গঠন করা সরকারের এক ধরনের গাফিলতি ছিল। সরকারের এই বিলম্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ নাশকতার চেষ্টা চালিয়েছে।মতবিনিময় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহাদী, জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রুঞ্জু ও সদস্যসচিব ইসমাঈল হোসেন হাদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।