মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যার রাতকে অভিযান পরিচালনার অনুকূল সময় হিসেবে দেখছেন মার্কিন কর্মকর্তারা; ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সেন্টকমইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা থাকায় ওই সময়কে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচনা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ওয়াশিংটন।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প।বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে যাতে দেশটি আর এ কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে নতুন করে হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে সেন্টকমএদিকে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা পায়নি মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই কমান্ড।মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। ফলে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে রয়েছে।ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারে আপত্তি বাগদাদেরঅন্যদিকে, বৃহস্পতিবার টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি। এ সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে নিজের দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর ঘাঁটি হিসেবে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার বিষয়ে বাগদাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের। তবে ৯ নভেম্বরকে ঘিরে হামলার সম্ভাবনার কথা সামনে এলেও ওই দিনই অভিযান শুরু হবে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।