বয়স ৫৩ বছর। তবু সৌন্দর্য ও ফিটনেসের কারণে আলোচনায় বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তার ফিট থাকার পেছনে রয়েছে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার অভ্যাস। তার খাবারের তালিকায় বিদেশি খাবার কিংবা দামি সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাধান্য পায় পরিচিত ঘরোয়া খাবার—ডাল, রুটি, সবজি, মাছ ও ফল।গত ১ নভেম্বর ৫৩ বছরে পা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। জন্মদিনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার রুটিন। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত খাবার গ্রহণ এবং রাতের খাবার হালকা রাখার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন তিনি।সকালের খাবারে ওটস ও ব্রাউন ব্রেডঐশ্বরিয়ার দিনের শুরু হয় মধু ও লেবু মেশানো হালকা গরম পানি পান করার মাধ্যমে। কসমোপলিটানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সকালের নাশতায় ওটস ও ব্রাউন ব্রেডের টোস্ট রাখেন।সকালের খাবার বাদ না দিয়ে নিয়ম মেনে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তার। তবে মধু-লেবু মেশানো পানি পান করলেই ওজন কমে বা সৌন্দর্য ধরে রাখা যায়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।দুপুরের খাবারে ঘরোয়া পদদুপুরের খাবারে ডাল, চাপাটি ও সেদ্ধ সবজির মতো সাধারণ খাবারই পছন্দ করেন ঐশ্বরিয়া। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে তার। অর্থাৎ, খাবার থেকে সবকিছু বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সুষম খাবার গ্রহণ ও পরিমিত খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।রাতের খাবারে মাছ ও ব্রাউন রাইসদিনের শেষ খাবার তুলনামূলক হালকা রাখেন এই অভিনেত্রী। রাতের খাবারের তালিকায় থাকে গ্রিল করা মাছ ও ব্রাউন রাইস। দুই বেলার খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে ক্ষুধা লাগলে তাজা মৌসুমি ফল ও শুকনো ফল খান বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।জাঙ্ক ফুড ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে ফলমূল ও সবজি খাওয়ার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেন তিনি।তবে তার প্রতিদিনের খাবারের নির্দিষ্ট পরিমাণ, রান্নার উপকরণ কিংবা ব্যস্ততার কারণে খাদ্যতালিকায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।শরীরচর্চায়ও নিয়মিতফিটনেস ধরে রাখতে শুধু খাবারের দিকেই নজর দেন না ঐশ্বরিয়া। শরীরচর্চাকেও দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিয়েছেন তিনি।বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার শরীরচর্চার তালিকায় রয়েছে হাঁটা, জগিং ও যোগব্যায়াম। প্রায় ৪৫ মিনিট যোগাসন করার পাশাপাশি কখনো পাওয়ার যোগা করেন। এ ছাড়া কার্ডিও ও ফাংশনাল ট্রেনিংয়ের অভ্যাসও রয়েছে বলে অতীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ঐশ্বরিয়ার খাদ্যাভ্যাস থেকে কী শেখার আছে?ঐশ্বরিয়ার খাদ্যাভ্যাসের উল্লেখযোগ্য দিক হলো সাধারণ ও পরিচিত খাবারের প্রতি নির্ভরতা। ডাল, রুটি, সবজি, মাছ ও ফলের মতো খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত খাওয়া, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরচর্চার অভ্যাস তার ফিটনেস রুটিনের অংশ।তবে কোনো তারকার খাদ্যতালিকা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বয়স, শারীরিক গঠন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও দৈনন্দিন কাজের ধরন অনুযায়ী মানুষের পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়। তাই অন্যকে অনুকরণ করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন না করে পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিজের উপযোগী খাদ্যতালিকা ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা করা উচিত।