এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে সময় বাড়ল, শেষ সুযোগ রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত
প্রথম দর্পণ অনলাইন, ডেক্স||
প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৫:২৯ সময়
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে কারিগরি ত্রুটির কারণে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আবেদনের সময় শনিবার রাত ১২টার পরিবর্তে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।এবার ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। তাঁরা মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি বিষয়ের উত্তরপত্র পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছেন।শনিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইন কারিগরি ত্রুটির কারণে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। এতে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের সময় ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।পাসের হার ৫২.১২ শতাংশগত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদনে আগ্রহ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নের জন্যও আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। গত ১ নভেম্বর থেকে এ আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ফলাফলে পরিবর্তনের আশায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।এসএসসিতে ফল পরিবর্তন হয়েছিল বহু শিক্ষার্থীরএর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৭৯ জন। ফেল থেকে পাস করেন ৪ হাজার ৮৫ জন। এ ছাড়া ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছিল।ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছিলেন।এসএসসির ফল পরিবর্তনের এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।তথ্যসূত্রআন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির জরুরি বিজ্ঞপ্তি এবং প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল।