সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের তালিকায় জায়গা হয়নি একজনেরও।
সোমবার দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাস করা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি দাখিল মাদ্রাসা এবং দুটি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কুটারগাঁতী দাখিল মাদ্রাসা (ভোকেশনাল), আইআর টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট (ভোকেশনাল), বাসুদেবকোল শ্রীরামের পাড়া দাখিল মাদ্রাসা, মিরের দেউলমোড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, বিএম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা, হাসিল দাখিল মাদ্রাসা ও ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
এর মধ্যে কুটারগাঁতী দাখিল মাদ্রাসা (ভোকেশনাল) থেকে সাতজন, আইআর টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে ১৬ জন, বাসুদেবকোল শ্রীরামের পাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৭ জন, মিরের দেউলমোড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন, বিএম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন, কয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন, হাসিল দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০ জন এবং ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। আট প্রতিষ্ঠানের মোট ১৪১ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গবাদিপশু পালন
এদিকে রায়গঞ্জের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে—এমন চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাদ্রাসা ভবনের বারান্দা ও আশপাশের জায়গায় গবাদিপশু থাকার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সময়ে উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধারাবাহিকভাবে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহা. নূরন্নবী মিয়া বলেন, “আমি এখন বাইরে আছি। কালকে অফিসে আসেন, সামনাসামনি কথা হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল রাজ্জাক মন্ডল বলেন, “শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি এমপিওভুক্ত এবং বাকিগুলো নন-এমপিও। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন এমন ফলাফল হলো, বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করব। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তাদের শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, তা চিহ্নিত করে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের কার্যক্রমে নজরদারি এবং একাডেমিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পারভেজ সরকার,স্টাফ রিপোর্টার