উচ্চকক্ষে ১০৫ সদস্যের প্রস্তাব, নির্বাচনী সরকার গঠনেও নতুন ভাবনা

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল
  • ২৩১৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
৫০ সদস্য ভোটের অনুপাতে, ৫০ জন সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে; উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় একাধিক প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ১০৫ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা এবং সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ পৃথক করা।

শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করেন আমন্ত্রিত শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, উচ্চকক্ষ গঠনের একটি প্রস্তাবে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের প্রস্তাব

বৈঠকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষক ১০৫ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন সংসদীয় আসনের অনুপাতে এবং ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে রাষ্ট্রপতির হাতে।

প্রস্তাবদাতার মতে, এ ধরনের কাঠামো সংসদে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হতে পারে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন।

স্পিকার হতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ওই শিক্ষাবিদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এ ছাড়া সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবদাতার যুক্তি, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকার সুযোগ থাকবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

তিনি জানান, স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখার বিষয়টিও বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।

কমিটির সভাপতি জানান, শনিবারের আলোচনা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল। কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।

উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে আসন বণ্টনের প্রস্তাবটি উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিচার বিভাগ ও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়েও মতামত দেন আলোচকরা।

এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা ভোট ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

বৈঠকে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকেরা অংশ নেন। কমিটির পক্ষ থেকে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad