আধুনিক অনেক রাউটারে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড রয়েছে। নতুন কিছু মডেলে ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডও পাওয়া যায়। রাউটারের ‘ব্যান্ড স্টিয়ারিং’ বা ‘স্মার্ট কানেক্ট’ সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইসকে উপযুক্ত ব্যান্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করে। তবে কখনো কখনো এ ব্যবস্থায় ডিভাইস দ্রুতগতির ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের বদলে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে যুক্ত থাকতে পারে।
কোন ব্যান্ড কখন ব্যবহার করবেন২.৪ গিগাহার্টজ: এ ব্যান্ডের সংকেত তুলনামূলক বেশি দূরে পৌঁছায় এবং দেয়ালসহ বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে সংযোগ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। তবে আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য যন্ত্রের হস্তক্ষেপে গতি কমতে পারে।
৫ গিগাহার্টজ: কাছাকাছি অবস্থান থেকে স্মার্টফোন, ল্যাপটপে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এ ব্যান্ড সাধারণত ভালো বিকল্প। তবে দূরত্ব ও দেয়ালের কারণে সংকেত দুর্বল হতে পারে।
৬ গিগাহার্টজ: সমর্থিত রাউটার ও ডিভাইসে এ ব্যান্ড উচ্চগতির সংযোগ দিতে পারে। তবে এর কার্যকর দূরত্ব ও বাধা পেরোনোর সক্ষমতা তুলনামূলক সীমিত হতে পারে।
ব্যান্ড বদলাবেন যেভাবেইন্টারনেটের গতি বাড়াতে রাউটারের অ্যাডমিন পেজে প্রবেশ করে ‘ব্যান্ড স্টিয়ারিং’, ‘অটো-ব্যান্ড সিলেকশন’ বা ‘স্মার্ট কানেক্ট’ সুবিধা বন্ধ করা যেতে পারে। এরপর ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের জন্য আলাদা ওয়াই-ফাই নাম (এসএসআইডি) তৈরি করলে ব্যবহারকারী প্রয়োজন অনুযায়ী ডিভাইস সংযুক্ত করতে পারবেন।
যেমন, রাউটারের কাছাকাছি বসে ভিডিও দেখা, অনলাইন সভা বা বড় ফাইল ডাউনলোডের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড বেছে নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, দূরের কক্ষে থাকা স্মার্ট হোম ডিভাইসের জন্য ২.৪ গিগাহার্টজ বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে রাউটারের মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী বিকল্পগুলোর নাম আলাদা হতে পারে। ব্যান্ড পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট রাউটারের নির্দেশিকা দেখে নেওয়া ভালো।
চ্যানেল পরিবর্তনেও কমতে পারে বিঘ্নআশপাশের একাধিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক একই চ্যানেল ব্যবহার করলে সংকেতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ওয়াই-ফাই বিশ্লেষক অ্যাপের সাহায্যে তুলনামূলক কম ব্যস্ত চ্যানেল শনাক্ত করে রাউটারের সেটিংসে তা নির্বাচন করা যায়। ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে ১, ৬ ও ১১ নম্বর চ্যানেল সাধারণত ব্যবহার করা হয়। তবে কোন চ্যানেল ভালো হবে, তা আশপাশের নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
কিছু আধুনিক রাউটার ও ডিভাইসে ‘মাল্টি-লিংক অপারেশন’ (এমএলও) প্রযুক্তি রয়েছে। এটি সমর্থিত একাধিক ব্যান্ড ব্যবহার করে সংযোগের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। তবে সুবিধাটি পেতে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইস—উভয়টিতেই প্রযুক্তিটির সমর্থন থাকতে হবে।
গতি কমার অন্য কারণও পরীক্ষা করুনইন্টারনেট ধীর হলেই যে ওয়াই-ফাই ব্যান্ড দায়ী, তা নয়। রাউটারের অবস্থান, দেয়াল বা অন্য বাধা, আশপাশের নেটওয়ার্কের হস্তক্ষেপ, ডিভাইসের সক্ষমতা এবং ইন্টারনেট সেবাদাতার সংযোগেও সমস্যা থাকতে পারে। তাই ব্যান্ড পরিবর্তনের পাশাপাশি রাউটার খোলামেলা স্থানে রাখা, সংযোগ পুনরায় চালু করা এবং ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করাও জরুরি।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)