১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আদালতে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ বিকাল
  • ৪০২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে সংস্থাটি। সেনা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের সামরিক হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিজিএফআই সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করা হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আবেদনটি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেনা আইনে তদন্তের উদ্যোগ

আদালতে পাঠানো ডিজিএফআইয়ের চিঠিতে বলা হয়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠন এবং সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পর তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা সামরিক বিচারের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন।

তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুতর। ভুক্তভোগী যেন পূর্ণ ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিচার প্রচলিত আদালতে হোক কিংবা সামরিক ট্রাইব্যুনালে—অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয়

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের ওই দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। ওই দিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন সোহেল রানা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রতিবেশী। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে সোহেল রানা শরীফকে রাজধানীর চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ৬ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার ২৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, সোহেল রানা ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে এসে শরীফকে আটকে রাখেন। তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

৭০ হাজার টাকা দিয়েও রেহাই পাননি ব্যবসায়ী

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আটকে থাকা অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে শরীফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে থাকা ৭০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের দেন। কিন্তু তাঁরা এতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

একপর্যায়ে শরীফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরদিন ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাঁকে ফ্ল্যাট থেকে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলেন। পরে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে তাঁকে গাড়ির মধ্যে আটকে রাখা হয়।

পুলিশের গাড়ি দেখে পালিয়ে রক্ষা

মামলার বিবরণে বলা হয়, অভিযুক্তরা চা খেতে গাড়ি থেকে নামলে শরীফ পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ গিয়ে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় জিয়াউল ইসলামের চালিত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে থেকে আনসার সদস্য সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad