১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ দুপুর
  • ৪৮০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। তবে এলপিজি ব্যবসায়ীরা দাম ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ২৩২ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও গণশুনানিতে উঠে আসা মতামত পর্যালোচনা করে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণা করবে কমিশন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে আয়োজিত দিনব্যাপী গণশুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এ সুপারিশ তুলে ধরে।

এর আগে চলতি অক্টোবরের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কমিশনের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সাসটেইনেবল এনার্জি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন্স (সেরা), এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে যৌক্তিক দামে এলপিজি পায় এবং ব্যবসায়ীরা যাতে লোকসানের মুখে না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে কমিশন।

তিনি জানান, আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এলপিজির দাম ঘোষণা করা হবে। কমিশন ১ বা ২ তারিখের মধ্যে মূল্য ঘোষণা করার চেষ্টা করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে। ব্যাংকিং সমস্যার কারণে যেসব আমদানিকারক ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছেন না, তাদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব

গণশুনানিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। এর মধ্যে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা কমিশন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেন।

‘মাফিয়া’ মন্তব্যে উত্তেজনা

গণশুনানির শেষদিকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ বলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এফবিসিসিআইয়ের সদস্য শাহ আলম সরকার অভিযোগ করেন, বিইআরসি দাম নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করছে। কিন্তু এলপিজি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন। এসব ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

এ সময় ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ বলার বিষয়ে আপত্তি জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ। তিনি শাহ আলম সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তাদের মাফিয়া বলতে পারেন না।’

এর প্রতিবাদে শাহ আলম বলেন, সংবাদমাধ্যমেও ব্যবসায়ীদের মাফিয়া বলা হচ্ছে। নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার গ্রাহকদের আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে। মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি চললেও কমিশন শুধু দাম ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান উপস্থিত শ্রোতাদের একাংশ। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, বিচারকের আসনে থেকে তিনি কেন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলছেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের একাংশ শাহ আলমকে থামানোর চেষ্টা করলে ক্যাবসহ অন্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানান। পরে কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

শুনানিতে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে পাঁচটি এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চায় অর্থনীতি সমিতি।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করে এক মাসে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত না করা, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির ঘটনায় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার প্রতিবাদে গণশুনানি বয়কটের ঘোষণা দেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, আমদানি ব্যয়, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গ্রাহকরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad