প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতি ট্রয় আউন্সের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলার হলে এক ভরি স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ডলার।
প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৪ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা। তবে এটি কেবল আন্তর্জাতিক বাজারের আনুমানিক মূল্য। দেশের বাজারে আমদানি ব্যয়, ভ্যাট, মজুরি ও অন্যান্য শুল্ক যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত দাম ভিন্ন হতে পারে।
কেন বাড়তে পারে স্বর্ণের দামবিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে চীনসহ কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করায় এর বাজারদরেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হচ্ছে।
সুদের হার বাড়লে কমতে পারে চাহিদাতবে স্বর্ণের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হলে বন্ডসহ সুদভিত্তিক বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণ থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে বাজারে দাম কমার চাপ দেখা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের বাড়তি চাহিদার কারণে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে জেপি মরগ্যান।
তথ্যসূত্র: জেপি মরগ্যানের পূর্বাভাস ও যুগান্তর।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক