রাজারহাটের তিন কলেজে এইচএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ রাত
  • ১১১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১৭ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংকটের কথা জানালেন অধ্যক্ষরা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের খাতায় নাম ওঠেনি কারও। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজ, সিংগার ডাবড়ী হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ জন, দ্বিতীয়টি থেকে ছয়জন এবং তৃতীয়টি থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হননি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংকটে পাঠদান ব্যাহত

উপজেলার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিংগার ডাবড়ী হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম সরকার জানান, ২০২৫ সালে ১০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। ২০২৩ ও ২০২২ সালেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে কলেজ শাখার পাঠদানের অনুমতি পায়।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তুহিন পাটোয়ারী বলেন, কলেজ শাখায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—দুই সংকটই রয়েছে। এবারের এইচএসসি ব্যাচে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাকিদের কেউ ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছে, আবার অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে তারা কলেজে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি আরও জানান, গত বছর একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিল। আগের বছরগুলোতেও দু-একজন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ১০ জন ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০ জন ভর্তি রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও বেতন না থাকায় তাঁরা নিয়মিত কলেজে আসতে চান না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনিয়মিত।

অন্যদিকে, সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজ থেকে চলতি বছর ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।

শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ফল বিপর্যয় ও পাঠদানের অনিয়মের বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রশাসন যেভাবে ব্যবস্থা নেবে, তাঁরা সেভাবেই পদক্ষেপ নেবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, তাঁরা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত অবগত নন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad