সলঙ্গায় ড্রাইভারকে অপহরণ করে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় এক ড্রাইভারকে অপহরণ করে মারধর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন (৪৯)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ড্রাইভার। তিনি জানান, রাধানগর মৌজায় তার মায়ের নামে থাকা ৫ শতক জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। একইসঙ্গে সেখানে কয়েকজন ভাড়াটিয়াকেও থাকার সুযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ধোপাকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের জাকের আলীর ছেলে শাহাদত হোসেন, ছাইফুলের ছেলে রাসেল মিয়া (২২), শাহাদতের ছেলে তুষারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন কিশোর গ্যাং সদস্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৭ মে বিকেলে হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে ধোপাকান্দির রওশনের বিল্ডিংয়ে নিচতলার 'মাদক ও চোরাকারবারির পয়েন্টে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা গাড়ি ভাড়ার ৩১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের পরামর্শে তিনি সলঙ্গা থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদত হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম আলী শেখ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামণা করেন তারা।#

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ