রাজউকের প্লটের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে আসামি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ বিকাল
  • ১৮৬৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
উত্তরায় পাঁচ কাঠার প্লট কেনার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ; জামিন নামঞ্জুর আদালতের

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরার একটি প্লট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাঁচ কাঠার প্লট কেনার প্রস্তাব

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাছিরের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকায় জমি কেনাবেচার যৌথ ব্যবসা চলছিল। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী, জমি বিক্রির পর অর্জিত লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ বাদী এবং বাকি ৫০ শতাংশ আসামিদের পাওয়ার কথা ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় আসামিরা নাছিরকে জানান, উত্তরায় রাজউকের একটি পাঁচ কাঠার প্লট রয়েছে। ৫ থেকে ৬ কোটি টাকায় প্লটটি কিনে পরে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব বলে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট নাছির প্লটটি পরিদর্শন করেন এবং বিনিয়োগে সম্মত হন।

পে-অর্ডার ও নগদে নেওয়া হয় টাকা

অভিযোগে বলা হয়, জমির বায়না ও নিবন্ধনের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে পে-অর্ডার ও নগদে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা রাফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম এবং মামলার আসামি মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহীর অনুকূলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মিঞা হাসচিব, হাসনা হেনা ও আসিফ হাসান তুলিপসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে তারা বাদীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন এবং উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত অফিস তালাবদ্ধ করে চলে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে সিআইডি চলতি বছরের ৩০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচার ও টাকা উদ্ধারের দাবি

এদিকে মঞ্জুরুল আলমের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা অভিযোগে জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad