২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের জেরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ১০ কর্মকর্তাকে বদলি, পদায়ন ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাথমিকের তিনটি বইয়ে নৌকার ছবি বহাল রাখার সিদ্ধান্তে একই বিষয়ে ভিন্ন নীতি অনুসরণের প্রশ্ন উঠেছে।
দুই দিনে ১০ কর্মকর্তা বদলিশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত সোমবার বিষয় বিশেষজ্ঞ আফসানা আইয়ুবসহ আরও নয় কর্মকর্তাকে ওএসডি করে বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে।
এর আগে রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
মঙ্গলবার রাতে এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস ‘আমার দেশ’কে বলেন, তাঁর জানা মতে, নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে এর বাইরে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
২০ লাখ বই ফেরত এনে সংশোধনের উদ্যোগষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে পাঠানো প্রায় ২০ লাখ কপি বই ফেরত এনে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বইটির প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে।
ফলে বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণে অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সংশোধন করে পুনরায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিন বইয়ে বহাল নৌকার ছবিঅন্যদিকে, প্রাথমিকের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে নৌকার ছবি বহাল থাকছে। এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরিমার্জন কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী বইগুলো ছাপানো ও বিতরণ করা হয়েছে। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষের বই থেকে এসব ছবি বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সংশোধন কমিটিতে আপত্তি না থাকায় বইটি ছাপানো হয়েছিল। এ বছর তা সংশোধনের আর সুযোগ নেই।
সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্নএকটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অন্য তিনটি বইয়ে নৌকার ছবি বহাল রাখার সিদ্ধান্তে পাঠ্যবইয়ে প্রতীক ব্যবহারের নীতির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে ছবি ও প্রতীক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, বয়সোপযোগিতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা হলে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক