মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সঙ্গে বৈঠক, মক্কা জোটের চার সিদ্ধান্ত

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল
  • ৩৫১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক; সংঘাত বন্ধে সংলাপ ও মধ্যস্থতায় গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা। গত ২৬ অক্টোবর ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় ফেরানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবের সমন্বয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অংশ নেন।

অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৈঠকে চার সিদ্ধান্ত

১. সংঘাতের পক্ষগুলোকে আলোচনায় ফেরানো

বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল চলমান সামরিক সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২. কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সমর্থন

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ কূটনৈতিক মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

৩. সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনীতিতে গুরুত্ব

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কার্যকর সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সৌদি প্রতিনিধিদলের প্রধান প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংলাপের বিকল্প নেই।

৪. আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উত্তেজনা প্রশমনে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তও বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল। সংকটের নতুন বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করাই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের এই আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনায় অংশগ্রহণ ও সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad