বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অনেক আগেই পদ থেকে বিদায় করা উচিত ছিল। তাকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রাখা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ভুল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ‘জুলাইবিরোধী’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তাই তাকে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে সেই পদও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার আর কোনো ধরনের গড়িমসি করতে পারে না। জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে তার রাজনৈতিক দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় সংসদের ভেতরে সাংবিধানিকভাবে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, জনগণ যেমন ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের অধিকার রাখে, তেমনি গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়ও রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার সংস্কৃতি অতীতেও দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকারকে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আবারও মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক আচরণ, বিরোধী মত দমন এবং এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপি ধীরে ধীরে অতীত সরকারের পথেই এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে যদি সরকার অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে। কারণ গণতন্ত্রের মূল শক্তি জনগণ এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনআস্থাসম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও নানামুখী সংকটে রয়েছে। জনগণ রাজনৈতিক সংঘাত নয়, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। কিন্তু সরকার যদি জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।
সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে জনগণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটের মূল্য রক্ষা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতা কোনো দলের স্থায়ী সম্পদ নয়; জনগণের সমর্থনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত এবং কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক