শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার অভিযোগঅভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে (১৬) সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মো. সিয়ামের (১৯) বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, উদ্ধার মোবাইলতদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল।
দ্রুত বিচার চান অপ্রতিমের বাবানিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই তাঁর বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি আসামিদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের বয়সের কারণে যেন তারা শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক