রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালিপাড়া গ্রামের ধসে যাওয়া সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারে সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে তারা চাঁদা সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার করছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী রড, সিমেন্ট, বালুসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ধসে যাওয়া অংশে মাটি ভরাট ও সংস্কারকাজে অংশ নেন। গ্রামের তরুণ থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। কেউ অর্থ সহায়তা করছেন, কেউ নির্মাণসামগ্রী দিচ্ছেন, আবার অনেকে শ্রম দিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল পুনরায় চালু হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোয়ালিপাড়া গ্রামের সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার পর দোয়ালিপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশে মাটি ভরাট, রড বসানোসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ চলছে। এলাকাবাসীর সম্মিলিত এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, "আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে নিজেরাই সংস্কারকাজ শুরু করেছি। দ্রুত কাজ শেষ করতে সবাই স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।"
তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট সরকারি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামান সরকার বলেন, "এটি আমাদের গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরাই সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।"
এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক এই সংস্কারকাজ জনদুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ধসে যাওয়া সেতু ও সংযোগ সড়ক স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী সংস্কারই এ সমস্যার টেকসই সমাধান হতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক