রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধ এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিচয়পত্র ও নির্ধারিত পোশাক পরে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা সহজেই প্রকৃত কর্মচারীদের শনাক্ত করতে পারবেন এবং দালালদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন।
তিনি জানান, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে পুরো হাসপাতালকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে। এছাড়া একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন, রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউ বেড সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সার্বক্ষণিক অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, লাশ পরিবহনে অনিয়ম বন্ধে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো তালিকাভুক্ত করা হবে। কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করে তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং চালানের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ত্রাণমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সভায় রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক