ঠাকুরগাঁওয়ে এমপিও কাগজে জালিয়াতির অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ দুপুর
  • ৯২২০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও সংক্রান্ত কাগজপত্রে জালিয়াতি, নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেল সুবিধা নেওয়া এবং বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান কবির ১৯৯৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০০০ সালের ১ জুন তিনি বিএড স্কেল গ্রহণ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিএড স্কেল পাওয়ার আট বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও প্রথম এমপিও শিটে কারসাজি করে বিএড স্কেল কোড বসানো হয়। এর ফলে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০০৫ সাল থেকে টাইম স্কেল এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চতর স্কেলের সুবিধা গ্রহণ করেন। এতে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এ বি এম মহিউদ্দীন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ

এদিকে এমপিও সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যেই শাহজাহান কবির বকুলকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র শিক্ষক মহিউদ্দীনের দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তত তিনজন সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

বৈধ সিদ্ধান্ত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামত ছাড়া কীভাবে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়মবহির্ভূতভাবে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিরিন বানু বলেন, শাহজাহান কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা এবং দায় নির্ধারিত হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad