বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস আজ

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ দুপুর
  • ১০৬৬৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সাবান-পানিতে হাত ধুলেই কমে সংক্রমণের ঝুঁকি

অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু। এসব জীবাণু থেকে সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসতন্ত্রের নানা সংক্রমণ হতে পারে। অথচ পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস অনেক সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১৫ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস।

২০২৬ সালের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘হাত ধোয়ার বীর হোন’ (Be a Handwashing Hero)। দিবসটির মূল বার্তা হলো—ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অন্যদের সচেতন করার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাই ভূমিকা রাখতে পারে।

হাতের পরিচ্ছন্নতায় সুরক্ষা নাক-কান-গলার

নাক, চোখ ও মুখে অপরিষ্কার হাত স্পর্শ করার মাধ্যমে কিছু জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে হাতের পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কিছু ভাইরাসজনিত গলার সংক্রমণের বিস্তার কমাতে নিয়মিত হাত ধোয়া সহায়ক। শিশুদের মধ্যকর্ণের সংক্রমণ অনেক সময় সর্দি-কাশির পর দেখা দেয়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের কিছু সংক্রমণ প্রতিরোধ করা গেলে পরোক্ষভাবে কানের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমতে পারে। তবে কানের সংক্রমণ সরাসরি অপরিষ্কার হাতের কারণে হয় না।

ভাইরাসজনিত সর্দির কারণে নাকের ভেতরে প্রদাহ এবং কখনো সাইনাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে নাকের অ্যালার্জি, পলিপ কিংবা নাকের হাড় বাঁকা থাকার মতো সমস্যার সমাধান শুধু হাত ধোয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়।

যেসব সময়ে হাত ধোয়া জরুরি

দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—

খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে।

টয়লেট ব্যবহারের পর।

হাঁচি-কাশি দেওয়া বা নাক পরিষ্কার করার পর।

বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে এবং ময়লা বস্তু স্পর্শ করার পর।

অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যার আগে ও পরে।

শিশুর নাক পরিষ্কার করা বা ওষুধ প্রয়োগের আগে ও পরে।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি

হাত ধোয়ার সময় প্রথমে পরিষ্কার প্রবহমান পানিতে হাত ভিজিয়ে সাবান লাগাতে হবে। এরপর হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল এবং নখের নিচের অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নেওয়া জরুরি।

তবে শুধু হাত ধুলেই সব সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। হাঁচি-কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা, অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমানো, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান

শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের বড়দের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নাক-কান-গলার সুস্থতা রক্ষায় অপরিষ্কার হাত বা অনুপযুক্ত বস্তু নাকের ভেতরে প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কানে খোঁচাখুঁচি করা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানে কোনো বস্তু বা তরল ব্যবহার করাও উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাত ধোয়া সহজ, স্বল্পব্যয়ী ও কার্যকর একটি স্বাস্থ্যাভ্যাস। এটি অনেক সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করলেও সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad