দেশে প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ দুপুর
  • ৯১৮১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
অনলাইনে মামলা দায়ের, শুনানি ও সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ; ঢাকা ও চট্টগ্রামে আগের দুই আদালতে ১৬৯ মামলা, নিষ্পত্তি ৩৬টি

কাগজবিহীন বিচারিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশে প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় আদালতটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলা দায়ের, শুনানিতে অংশগ্রহণ, সাক্ষ্য প্রদান ও জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর লক্ষ্য পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সহজ করা, কাগজের নথির ব্যবহার কমানো এবং আদালত ও আইনজীবীর চেম্বারে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা।

অনলাইনেই চলবে বিচারিক কার্যক্রম

ই-পারিবারিক আদালত ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে সুরক্ষিত পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লগইন করেই মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন বিচারপ্রার্থীরা। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে মামলার তথ্য দেখা, মামলা দায়ের এবং শুনানিসহ বিভিন্ন ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, মামলা দায়ের থেকে শুরু করে নিষ্পত্তি পর্যন্ত সব কার্যক্রম ই-পারিবারিক আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন হয়। ফলে প্রতিকার পেতে বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালত বা আইনজীবীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে লগইন করার পর বিচারপ্রার্থীরা নিজেদের ড্যাশবোর্ডে মামলার প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখতে পারবেন। কাগজে নথি তৈরি ও সংরক্ষণের প্রয়োজন কমায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগের ই-পারিবারিক আদালতে ১৬৯ মামলা

সরকার গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি করে মোট দুটি ই-পারিবারিক আদালত চালু করে। ওই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঢাকায় আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত এবং দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ই-পারিবারিক আদালত-৫-এ এ পর্যন্ত ১৬৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দায়ের করা দুটি মামলাও রয়েছে। আদালতটিতে ইতোমধ্যে ৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

দ্রুত মিলবে সত্যায়িত অনুলিপি

ডিজিটাল ব্যবস্থায় মামলার আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পেতে বিচারপ্রার্থীদের আগের মতো সাত থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সামান্য ফি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনুলিপি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ডিজিটাল সত্যায়িত অনুলিপিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে নথিটির সত্যতা যাচাই করা যায়।

বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ

ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারজন বিচারককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক হাজারের বেশি আইনজীবীকে এ ব্যবস্থায় কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যেসব বিচারপ্রার্থীর স্মার্টফোন নেই অথবা যারা পড়তে ও লিখতে পারেন না, তাঁরা সরকারি আইনি সহায়তা বা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবীদের সহযোগিতা নিতে পারবেন। প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে আইনজীবীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

নারী ও শিশুর তথ্যের গোপনীয়তায় গুরুত্ব

পারিবারিক মামলায় বিচারপ্রার্থী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। এ ছাড়া আদালতগুলোকে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রথমবারের মতো ইন্টার্ন নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad