ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন :দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ দুপুর
  • ৯৫৫২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
২৯ অক্টোবর ভোট, সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা জামায়াত প্রার্থীর; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হবে প্রায় তিন গুণ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠে নেমেছেন। তবে প্রচারে বাধা ও ভোটকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেলাওয়ার। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই; তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। আর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হয়েছেন গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন।

ভোটের মাঠে পাঁচ প্রার্থী

নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।

এবার বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও আরও তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

জয়ের আশায় ১১ দল

দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতারাও প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর বড় নির্বাচনি সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আমার দেশকে বলেন, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে তাঁদের প্রার্থীর অবস্থান ভালো। সুষ্ঠু ভোট হলে তাঁরা বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বৃহস্পতিবার আমার দেশকে তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সাড়া দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখল না হলে তিনি বিজয়ী হবেন।

প্রচারে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ, তাঁর নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি গণসংযোগে তাঁকেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এ প্রার্থী।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সমতল মাঠ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা দুর্বল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্য প্রার্থীরাও বিভিন্ন অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন দেলাওয়ার।

গত সংসদ নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের পেছনে কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট গণনায় ত্রুটির অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের পরিবর্তে তাঁর ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেন দেলাওয়ার। তাঁর মতে, এসব কারণে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে।

জাগপার সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানও ১১ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, সুষ্ঠু ভোট হলে দেলাওয়ার হোসেন বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।

সেনা নয়, বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য দেন।

নির্বাচনকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও প্রচারে বাধার অভিযোগের মধ্যে ভোটের পরিবেশ কতটা নির্বিঘ্ন রাখা যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

তথ্যসূত্র: রকীবুল হকের প্রতিবেদন, আমার দেশ, ১৬ অক্টোবর ২০২৬। নির্বাচনি প্রার্থী, ভোটের পরিসংখ্যান, প্রচারে বাধার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad