পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নে সময়সীমাও বেঁধে দেন তিনি।
হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। পরে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাঙলা কলেজ ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রী আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। পরে নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার ও আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন তিনি। মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতের পরিস্থিতিও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতায় সময়সীমা
আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসককে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে রাজধানীর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক