নেত্রকোনার প্রকল্পে যুক্ত হলো শেরপুরও, ব্যয় বাড়ছে ১২০০ কোটি টাকা

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ দুপুর
  • ২৭৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে শেরপুর, মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন নেত্রকোনা জেলার প্রকল্পে শেরপুরকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যয় ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ অবস্থায় ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন কাজ সংযোজন ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংশোধিত প্রস্তাবটি মূল্যায়ন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

মূল ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে প্রকল্পের ব্যয়

নথি অনুযায়ী, ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধনী অনুমোদিত হলেও তখন ব্যয় ও মেয়াদ অপরিবর্তিত ছিল।

এবার দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পে শেরপুর জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান কাজের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ৮২ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়বে। প্রকল্পের মেয়াদও ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক নির্মাণে বাড়তি বরাদ্দ ৬২৯ কোটি টাকা

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনা হচ্ছে বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) পদ্ধতিতে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে। এ ধরনের সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৮২০ দশমিক ৬ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে ব্যয় ৫৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব ৬২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া উপজেলা সড়ক নির্মাণের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন সড়ক ১১৯ দশমিক ৮১ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১৪৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতাও ২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১৬০ দশমিক ৮ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরসিসি সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ১২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২০৫ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং ইউনিব্লক সড়ক ২০ দশমিক ২২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২২ দশমিক ২২ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রয়েছে।

পাশাপাশি ২১ হাজার ৪৫০ মিটার আরসিসি ইউ-ড্রেন, ২ হাজার ৭৮৪ মিটার সেতু এবং ১ হাজার ৮৫১ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক অগ্রগতিও ৪২ শতাংশের নিচে

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ। একই সময়ে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

এলজিইডি প্রকল্প সংশোধনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন সড়ক অন্তর্ভুক্তি এবং শেরপুরকে একই প্রকল্পের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন কাজের যৌক্তিকতা জানতে চায় কমিশন

প্রকল্পের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছালেও নতুন কাজ যুক্ত করে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, বাস্তবায়নের এ পর্যায়ে নতুন কাজ অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে বর্ধিত সময়ে চলমান ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম কীভাবে শেষ করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দিতে হবে।

কমিশন সমাপ্ত, চলমান, বাতিল এবং নতুন প্রস্তাবিত কাজের তালিকা আলাদাভাবে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছে। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্গঠন এবং এলজিইডির অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে একই কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্মিত সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখার পরামর্শও দিয়েছে কমিশন।

সার্বিকভাবে সংশোধিত প্রস্তাব মূল্যায়ন এবং কমিশনের শর্ত ও পর্যবেক্ষণ প্রতিপালন সাপেক্ষে একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad